গল্প
১ . ছোট খরগোশটি যে পৃথিবীকে সাহায্য করতে চেয়েছিল
একটি বিশুদ্ধ হৃদয়ের ছোট খরগোশ
- গল্পটি: অনেক অনেক দিন আগে, আলোয় ভরা এক বিশাল বনে, একটি বিশুদ্ধ হৃদয়ের ছোট খরগোশ বাস করত। সে পশুপাখিদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল না, সবচেয়ে দ্রুত ছিল না, বা সবচেয়ে জ্ঞানীও ছিল না। তবুও, যারা তাকে চিনত, তারা তার উপস্থিতিতে আস্থা অনুভব করত। তার একটি বিরল গুণ ছিল: সে নিজের আগে প্রায়শই অন্যদের কথা ভাবত। প্রতিদিন সকালে, যখন গাছের উপর সূর্য উঠত, সে তার চারপাশের পৃথিবী দেখত। সে দেখত পাখিরা তাদের বাসা বানাচ্ছে। সে দেখত কাঠবিড়ালিরা তাদের খাবার জমা করছে। সে দেখত হরিণরা তাদের বাচ্চাদের রক্ষা করছে। আর সে নিজেকে জিজ্ঞাসা করত:— আমিও কীভাবে উপকারী হতে পারি? এই প্রশ্নটি তাকে কখনও ছাড়ত না। একদিন, যখন সে একটি গাছের নিচে ধ্যান করছিল, তখন সে কিছু প্রাণীর কথা বলতে শুনল। — পৃথিবী কঠিন, একজন বলল। — প্রত্যেকে শুধু নিজের কথাই ভাবে, অন্যজন বলল। — সব জায়গায় প্রাণীরা কষ্ট পাচ্ছে, তৃতীয়জন যোগ করল। ছোট খরগোশটি গভীরভাবে প্রভাবিত হল। সে সারাদিন ধরে চিন্তা করল। সন্ধ্যা নামলে, সে তার চোখ আকাশের তারাদের দিকে তুলে ফিসফিস করে বলল:— আমি সমস্ত প্রাণীকে সাহায্য করতে চাই। কিন্তু কীভাবে করব? তার কোনো সম্পদ ছিল না। সে রাজা ছিল না, বা কোনো বিখ্যাত জ্ঞানীও ছিল না। তার কোনো বিশেষ ক্ষমতা ছিল না। তখন তার হৃদয়ে একটি চিন্তা জন্মাল:— হয়তো আমি যা দিতে পারি, তা হলো আমি নিজেই। দিন গড়িয়ে গেল। তার সাহায্য করার ইচ্ছা আরও শক্তিশালী হতে লাগল। একদিন সকালে, একটি ক্লান্ত বৃদ্ধ লোকটি বনে এল। তার পোশাক জীর্ণ ছিল। তার মুখ ক্লান্তিতে ভরা ছিল। তার কাছে মনে হচ্ছিল কোনো খাবার বা আশ্রয় নেই। প্রাণীরা উদ্বেগ নিয়ে দৃশ্যটি দেখল। বানর কিছু ফল আনল। উদবিড়াল মাছ আনল। শিয়াল যা দিতে পারে তা খুঁজতে লাগল। ছোট খরগোশটির নিজের কিছুই ছিল না। সে কেবল ঘাস খেত। সে কোনো খাবার দিতে পারত না। সে এক বিশাল দুঃখ অনুভব করল। — অন্যদের কিছু দেওয়ার আছে, সে ভাবল। আমার কিছুই নেই। তারপর তার মনে একটি অসাধারণ সিদ্ধান্ত এল। — যদি আমার কিছুই না থাকে, তাহলে আমি সব দেব। সে বৃদ্ধ লোকটির কাছে গেল। — আমার কাছে ফল নেই। — আমার কাছে মাছ নেই। — আমার কোনো সম্পদ নেই। কিন্তু যদি আমার জীবন কারো কাজে লাগে, তাহলে আমি তা উৎসর্গ করব। এই মুহূর্তে, কিংবদন্তি বলে যে বৃদ্ধ লোকটি তার আসল পরিচয় প্রকাশ করল। সে কোনো সাধারণ পথিক ছিল না। সে প্রাণীদের হৃদয়ের সততা পরীক্ষা করতে এসেছিল। আর ছোট খরগোশটির পরম উদারতা দেখে সে গভীরভাবে মুগ্ধ হল। সে তাকে বলল:— তোমার সহানুভূতি ইতিমধ্যেই পৃথিবীকে আলোকিত করছে। তোমার নিজেকে বলিদান করার দরকার নেই। তোমার হৃদয় যে স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত, সেটাই সমস্ত প্রাণীর জন্য একটি অমূল্য সম্পদ। তখন চাঁদের আলো যেন বনটিকে আবৃত করে ফেলল। আর সেই দিন থেকে, কথিত আছে, ছোট খরগোশটির ছবি পূর্ণিমার চাঁদে দৃশ্যমান থাকে, যা মানুষকে সত্যিকারের উদারতার শক্তি স্মরণ করিয়ে দেয়। Aliénor et Alain Delaporte-Digard